স্টাফ রিপোর্টার | Najinews.com
রাজধানীর আকাশপথ যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে নির্মিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। বহুল প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পটি দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির পরীক্ষামূলক ব্যবহার (trial run), নিরাপত্তা যাচাই এবং পরিচালনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি।
সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালনার জন্য একটি বিদেশি (বিশেষ করে জাপানি) কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে নতুন এই টার্মিনাল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ—বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে—টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে। যদিও এটি এক ধাপে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে (phase-wise) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীদের জন্য আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। এতে থাকবে আধুনিক চেক-ইন কাউন্টার ও স্বয়ংক্রিয় বোর্ডিং সিস্টেম, উন্নত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা, প্রশস্ত লাউঞ্জ ও ট্রানজিট সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে কয়েক কোটি যাত্রী সহজে সেবা নিতে পারবেন, যা দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকা এয়ারপোর্টের তৃতীয় টার্মিনাল শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়—এটি দেশের অগ্রযাত্রার প্রতীক। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে এবং যাত্রীরা এই আধুনিক সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
নাজি নিউজ- সকল সংবাদ একসাথে “খবরের সত্যতা, আমাদের অঙ্গীকার”